শবে বরাতের নামাজ পড়ার নিয়ম

শবে বরাতের নামাজ বলতে নফল নামাজ পড়া বোঝানো হয়। হাদিসে বলা হয়েছে, এই রাতে এক বছরের জন্য সৃষ্টি জগতের ভাগ্য বণ্টন করা হয়। এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য লাইলাতুল বরাতের এই রাতটি ইবাদত বন্দেগী করে কাটানো উচিত। শবে বরাতের নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া নিচে দেয়া হল।

শবে বরাতের ফজিলত

আরবি শাবান মাসের ১৪ই দিবাগত ১৫ তারিখের রাতকে লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত বলা হয়। শব শব্দের অর্থ রাত এবং বরাত অর্থ সৌভাগ্য। শবে বরাত শব্দের অর্থ হল সৌভাগ্যের রাত। মহান আল্লাহ মহিমান্বিত এ রাতে বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। এই রাতে পাক পবিত্র হয়ে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করলে, আল্লাহর কাছে নিজের পাপ, গুনাহ এবং অন্যায় কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে মহান আল্লাহ তা কবুল করেন এবং অনুতপ্ত বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।

হাদিসে আছে, “যে ব্যাক্তি শাবান মাসের পনের তারিখ রাতে এবাদত বন্দেগী করবে এবং দিনে রোজা রাখবে, তাকে দোজখের আগুন স্পর্শ করতে পারবে না”।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও দোয়া

শবে বরাতের নামাজের নিয়ত আরবিতে :

“নাওয়াইতুআন্ উছল্লিয়া লিল্লা-হি তা‘আ-লা- রাক‘আতাই ছালা-তি লাইলাতিল বারা-তিন্ -নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কা‘বাতিশ্ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার”।

নিয়ত বাংলায় :

“আমি ক্বেবলামূখী হয়ে আল্লাহ্ এর উদ্দেশ্যে শবে বরাতের দু‘রাক‘আত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম – আল্লাহু আকবার”।

শবে বরাতের নামাজ পড়ার নিয়ম

শবে বরাতের নফল নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হবে। কমপক্ষে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। তবে লাইলাতুল বরাতের নামাজ এর বেশি যত রাকাত পড়া যায় ততই উত্তম। কারন যত বেশি সালাত আদায় করা যায় যাবে তত বেশি ছওয়াব।

নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর যে কোন সূরা মিলিয়ে পড়া যাবে। তবে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ক্বদর, সূরা ইখলাছ, আয়াতুল কুরছী অথবা সূরা তাকাছুর ইত্যাদি সূরা মিলিয়ে পড়া বেশি ছওয়াবের কাজ।

প্রতি ৪ রাকাত পর পর কিছু তাসবিহ্-তাহলীল আদায় করে তওবা পড়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করা অতি উত্তম।

পবিত্র শবে বরাতে এভাবে এভাবে সারা রাত নামাজ আদায় করতে পারেন। নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারবেন। আসুন এই পবিত্র রাতে আমরা বেশি বেশি করে নফল নামাজ আদায় করি এবং আল্লাহ্‌র কাছে নিজের গুনাহ এবং অন্যায় কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন, আমীন।

আরও পড়ুন : নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম

তথ্য সুত্র: al-feqh

আরও পড়ুন
error: Alert: Content is protected !!