কোরবানির মাংস সংরক্ষণ

কোরবানির মাংস গরিব এবং আত্মীয় স্বজনদের দেয়ার পর সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয়। অনেকে চিন্তিত থাকেন কোরবানির মাংস কতদিন রাখা যাবে সেটি নিয়ে। নানা উপায়ে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করা যায়। তবে সংরক্ষণ এমনভাবে করতে হবে, যেন এর স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে। চলুন কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখার নিয়ম জেনে নেই।

আরও পড়ুন: কোরবানির মাংস বন্টনের নিয়ম

পূর্ব প্রস্তুতি
মাংস কাটার যন্ত্রপাতি, যেমন দা, চাপাতি, বঁটি, ছুরি এগুলি আগে থেকে পরিষ্কার করে স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে রাখতে হবে। না হলে এগুলোর মাধ্যমে মাংসে জীবাণু আক্রমণ করতে পারে এবং মাংস নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

যে সকল স্থানে মাংস কাটা কাটির কাজ করা হবে, সেই স্থান আগে থেকেই সাবান ও স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। এসব জায়গা থেকেও জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে। তাছাড়া ধুলাবালি পড়লে মাংস খেতেও ভাল লাগবে না।

মাংস যেখানে রাখা হবে যেমন বড় গামলা এবং ফ্রিজ, এগুলি ও আগে থেকেই ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে রাখুন।
মাংস যে প্যাকেটে রাখা হবে, সেটাও যেন পরিষ্কার ও শুকনা থাকে এটা খেয়াল রাখবেন।

সংরক্ষণ
মাংস ভাগ করার পর ফ্রিজে ওঠানোর জন্য খুব বেশি সময় নেয়া উচিত নয়। আবার বেশি তাড়াহুড়া করে কাটার পর পর গরম মাংস উঠিয়ে রাখাও কিন্তু ঠিক নয়।

মাংস ফ্রিজে রাখার আগে খেয়াল করুন বাড়তি রক্ত লেগে আছে কি না। যদি রক্ত লেগে থাকে তাহলে কিচেন টাওয়েল বা পাতলা এবং পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিবেন। মনে রাখবেন যে মাংস ফ্রিজে রাখা হবে, সেটা কিন্তু পানিতে ভেজানো যাবে না।

মাংসের প্যাকেট বা পলিথিনে লেবেল বা ট্যাগ লাগিয়ে রাখতে পারেন। কোনটা কিমা, মাংস, কলিজা, মগজ এগুলো প্যাকেটে লিখে রাখলে পরবর্তী সময়ে খুঁজে বের করতে সুবিধা হবে।

মাংস প্যাক এমনভাবে করবেন, যেন বের করার পর ঐ প্যাকেটের মাংস একদিনেই রান্না করা যায়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী প্রতি প্যাকেটের জন্য মাংসের পরিমাণ নির্ধারণ করুন। কারণ প্যাকেটে বেশি রাখলে প্যাকেট ফ্রিজ থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে মাংস গলিয়ে কিছু পরিমান রান্না করার পর বাকি মাংস আবার উঠিয়ে রাখতে হয়। এতে মাংসের স্বাদ এবং গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে।

ফ্রিজে একটা প্যাকেট রেখে সেটার ওপর খবরের কাগজ বিছিয়ে তার ওপর আরেকটি প্যাকেট রাখুন। এভাবে স্তরে স্তরে প্রতিটি প্যাকেট সাজিয়ে রাখলে একটা আরেক টার সঙ্গে লেগে যাবে না।

বড় মাংস এবং হাড়ের প্যাকেট গুলো রাখুন ফ্রিজের নিচের দিকের তাকে রাখবেন। ওপরের দিকের তাকে মগজ, কলিজা, কিমা, ছোট মাংস এগুলো রাখবেন। না হলে বড় হাড়ওয়ালা মাংসের চাপে পিষ্ট হতে পারে কলিজা বা নরম মাংস।কোন প্যাকেট আগে আর কোনটি পরে তাও মাথায় রাখুন প্যাকেট সাজানোর সময়।

মাংসের প্যাকেট বেশি আঁটসাঁট করে ফ্রিজে রাখবেন না। এতে বরফ জমে পরে বের করতে সমস্যা হতে পারে। ফ্রিজ একেবারে ভরে টইটম্বুর করে ফেলাও কিন্তু ঠিক নয়।

ডিপ ফ্রিজে সবচেয়ে নিচের তাপমাত্রায় মাংস সংরক্ষণ করা উচিত। সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে মাংস ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকবে। ডিপ ফ্রিজে নরমাল তাপমাত্রায় মাংস ৫ থেকে ৭ মাস ভালো থাকে।

আরও পড়ুন